বর্তমান সমাজে পান, সুপারি ও জর্দা খাওয়া অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ
এটিকে সামাজিক রেওয়াজ হিসেবে গ্রহণ করেছে, আবার কেউ আসক্তির কারণে ছাড়তে পারছে না।
কিন্তু একজন সচেতন মুসলিমের জন্য জরুরি হলো—যে কোনো কাজের আগে তা কুরআন ও সহীহ
হাদীসের আলোকে যাচাই করা। ইসলাম শুধু নামায, রোজা বা হজে সীমাবদ্ধ নয়;
বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি
দিককে আলোকিত করেছে।
কুরআনের আলোকে:
আল্লাহ বলেন: “তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।”
(সূরা আল-বাকারা,
২:১৯৫)
আবার আল্লাহ বলেন: “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের
প্রতি পরম দয়ালু।” (সূরা আন-নিসা,
৪:২৯)
এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, শরীরের ক্ষতি করে এমন যে কোনো কাজ ইসলাম
নিরুৎসাহিত করে।
পান, সুপারি
ও বিশেষ করে জর্দা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মুখ, দাঁত, মাড়ি ও গলার মারাত্মক ক্ষতি করে,
এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
সুতরাং এগুলো সেবন করা আত্মবিনাশের শামিল, যা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
হাদীসের আলোকে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ
বলেন: “কোনো রকম ক্ষতি করো না এবং ক্ষতির প্রতিদান দিও না।”
(ইবনে মাজাহ,
হাদীস ২৩৪১ –
সহীহ)
এখানে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে যে, নিজের বা অন্যের ক্ষতি করে এমন কাজ
ইসলামে হারাম বা অন্তত মারাত্মকভাবে অপছন্দনীয়।
আরেকটি হাদীসে এসেছে: “আল্লাহ যা হারাম করেছেন,
তা পরিষ্কার। আর
যা সন্দেহজনক, সেগুলো থেকেও দূরে থাকাই মুত্তাকীর পথ।”
(সহীহ মুসলিম,
হাদীস ১৫৯৯)
পান, সুপারি
ও জর্দা নিয়ে আজকের চিকিৎসাবিজ্ঞান সন্দেহহীনভাবে প্রমাণ করেছে যে এগুলো ক্ষতিকর।
তাই এগুলো থেকে দূরে থাকা মুত্তাকীর পরিচায়ক।
সমাজ ও অর্থনীতির ক্ষতি:
শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ক্ষতিই নয়, বরং পান-সুপারি-জর্দার অভ্যাস সমাজে নানা
সমস্যার জন্ম দেয়:
- রাস্তাঘাট, ভবন ও পরিবেশ নোংরা হয়।
- কর্মক্ষমতা
নষ্ট হয়, ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।
- আসক্তি
মানুষকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ খরচ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
ইসলাম যে পরিচ্ছন্নতা, সুস্থতা ও পরিপূর্ণ জীবনের শিক্ষা দেয়,
এর সঙ্গে এইসব কুঅভ্যাসের কোনো সামঞ্জস্য
নেই।
ইসলামী ফতোয়ার দৃষ্টিকোণ:
বিভিন্ন আলেম ও ফিকহ বিশেষজ্ঞগণ বলেন:
- যদি কোনো
বস্তু শরীরের ক্ষতির কারণ হয়, তবে তা হারাম বা অন্তত মাকরূহে
তাহরীমি।
- বিশেষ করে
জর্দা ও তামাকজাত দ্রব্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হওয়ায় এর ব্যবহার হারাম।
- পান ও
সুপারি, যদিও সরাসরি মাদক নয়, তবুও ক্ষতির কারণে এগুলোও এড়িয়ে চলা আবশ্যক।
একজন সচেতন মুসলিমের কর্তব্য হলো ক্ষতিকর বস্তু থেকে নিজেকে বাঁচানো এবং
অন্যকেও সতর্ক করা। কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে পান, সুপারি ও জর্দা খাওয়ার কোনো বৈধতা নেই।
বরং এগুলো থেকে বিরত থাকা ইবাদতেরই অংশ, কারণ এর মাধ্যমে আমরা শরীর ও জীবনকে
রক্ষা করি—যা
আল্লাহর অর্পিত আমানত।

No comments:
Post a Comment